ছাত্রজোটের উদ্যোগে স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র প্রতিরোধ দিবস পালিত

রংপুর জেলার ছাত্রজোটের উদ্যোগে স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র প্রতিরোধ উপলক্ষে দুপুর ১২.৩০ টায় প্রেসক্লাব চত্বর থেকে একটি মিছিল বের হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। শহীদ মিনারে পুস্পমাল্য অর্পণ শেষে শহীদদের উদ্দেশ্যে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সংক্ষিপ্ত আলোচনায় নেতৃবৃন্দ স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবসের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে বলেন, ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি যখন ‘মজিদ খানের শিক্ষানীতি’ বিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে তখন ছাত্রসমাজ শিক্ষানীতি প্রত্যাখ্যান করে ১৪ ফেব্রুয়ারি ডাক দেয় ছাত্র জমায়েতের। মিছিলের অগ্রভাগে মেয়েরা, ভয় শঙ্কাহীন। সেদিন মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা হাইকোর্ট এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। একসময় আকস্মিকভাবে রায়ট কার ঢুকিয়ে গরম পানি ছিটানো শুরু করে পুলিশ। এরপর লাঠিচার্জ ও নির্বিচারে গুলি।

‘মজিদ খানের শিক্ষানীতি’ বিরোধী আন্দোলনে পুলিশের লাঠিচার্জ
‘মজিদ খানের শিক্ষানীতি’ বিরোধী আন্দোলনে পুলিশের লাঠিচার্জ

মিছিলে প্রথম গুলিবিদ্ধ হন জয়নাল। এরপর একে একে জাফর, কাঞ্চন, দীপালী সাহা সহ নাম না জানা আরও অনেকে শহীদ হন। ১৪ ফেব্রুয়ারি:‘ভালোবাসা দিবস’র আড়ালে যে রক্তস্নাত লড়াইয়ের ইতিহাস আমরা ভুলতে বসেছি। বর্তমান প্রজন্মের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া কোনো শিক্ষার্থী বন্ধুকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়- ‘১৪ ফেব্রুয়ারি কী দিবস?’ চটজলদি উত্তরে সে বলবে- ‘কেন, ভালোবাসা দিবস।’ যদি আবারো বলা হয়- ‘১৪ ফেব্রুয়াারি আমাদের দেশের শিক্ষা বা রাজনৈতিক আন্দোলনে কেন তাৎপর্যপূর্ণ?’ বেশিরভাগ শিক্ষার্থী হয়তো ইতস্তত ভঙ্গিতে বলবে-‘জানি না তো’।

এই ১৪ ফেব্রুয়ারিতেই সংগঠিত হয় বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ছাত্র-গণআন্দোলন। জাফর-জয়নাল-দীপালী সাহার জীবনের দামে বাতিল হয়েছিলো স্বৈরাচার এরশাদের কুখ্যাত মজিদ খান শিক্ষানীতি। এই আন্দোলনের ইস্পাতদৃঢ় পদভার ফাটল ধরিয়েছিলো এরশাদশাহীর দীর্ঘ নয় বছরের স্বৈরসিংহাসনের। ইতিহাসের সংগ্রামী শিক্ষা মানুষকে বর্তমানের অচলায়তন ভাঙ্গার শক্তি জোগায়।

ইতিহাসের এই চেতনা উৎসারিত লড়াকু অধ্যায় ভুলিয়ে দিতে চায় আমাদের শাসকেরা। যারা এখনও তাদের স্বার্থে শিক্ষা আর রাজনৈতিক মতাদর্শ আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়। তবে নির্মোহ সত্য এটাও যে, ইতিহাসের সংগ্রামী চেতনা কখনও হারায় না।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট রংপুর জেলা সভাপতি রোকনুজ্জামান রোকন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন রংপুর জেলা সভাপতি প্রদীপ বর্মন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট রংপুর জেলা কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক আশিকুল ইসলাম তুহিন, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন রংপুর জেলার সাবেক আহবায়ক প্রত্যয়ী মিজান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

আরও পড়তে পারেন: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ

***পীরগঞ্জ টোয়েন্টিফোরে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।***

Content Protection by DMCA.com

আরও পড়ুন...