ওয়াহিদা খানমের উপর নৃশংস হামলায় দুই নেতাসহ আটক চার

বিজ্ঞাপন

ইউএনও ওয়াহিদা খানমের উপর নৃশংস হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন ৪ জনকে আটক করেছে র‌্যাব ও পুলিশের যৌথ বাহিনী

ঘোড়াঘাট উপজেলার ইউএনও ওয়াহিদা খানমের উপর নৃশংস হামলার ঘটনায় আজ শুক্রবার ভোরে হামলার সন্দেহভাজন প্রধান আসামী আসাদুল হককে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি সীমান্ত থেকে আটক করে র‌্যাব ও পুলিশের একটি যৌথ দল। আসাদুলের বাড়ি ঘোড়াঘাট উপজেলার ৪ নং ঘোড়াঘাট ইউনিয়নের সাগরপুর গ্রামে। পুলিশ জানায়, শুক্রবার ভোররাত ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাকিমপুর, বিরামপুর ও ঘোড়াঘাট থানা এবং র‌্যাব রংপুরের একটি দল যৌথভাবে হিলির কালিগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসাদুল হককে আটক করা হয়। এরপর তাকে রংপুরের র‌্যাব কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়াও দিনাজপুর ডিবি গোয়েন্দা পুলিশ ইউএনওর বাসভবনের নৈশ প্রহরী পলাশকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।

বিজ্ঞাপন

নৃশংস এই হামলার ঘটনায় এর আগে ঘোড়াঘাট থেকে অন্যতম সন্দেহভাজন জাহাঙ্গীর ও মাসুদ রানা নামে যুবলীগের দুই নেতাকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জাহাঙ্গীর ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক এবং মাসুদ ঘোড়াঘাট সিংড়া ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা। এদের মাঝে আটক জাহাঙ্গীর ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক হিসেবে ২০১৭ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটক দুই যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর ও মাসুদ রানা মাদক সেবনকারী ও মাদক ব্যবসায়ী । জাহাঙ্গীরের নামে পৌর মেয়রকে হত্যাচেষ্টা, জমি দখল ও চাঁদাবাজির কয়েকটি মামলা রয়েছে। এছাড়া যুবলীগের এই নেতার বিরুদ্ধে দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শিবলী সাদিককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগও রয়েছে। বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, জাহাঙ্গীর ও আসাদুলের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে হামলা, চাঁদাবাজি, মাদকসেবনসহ বিভিন্ন অভিযোগ থাকায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হলেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি ।

উল্লেখ্য, বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনও’র সরকারি বাসভবনে ঢুকে হামলা করে দুর্বৃত্তরা। দারোয়ানকে বেঁধে বাসার পেছনে গিয়ে মই দিয়ে উঠে ভেনটিলেটর ভেঙে বাসায় প্রবেশ করে হামলাকারীরা। ভেতরে ঢুকে হাতুরী ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারি কুপিয়ে এবং আঘাত করে ইউএনও ওয়াহিদাকে আহত করে হামলাকারীরা, আঘাতের ফলে তার মাথার হাড় ভেঙ্গে মস্তিষ্কে ঢুকে যায় । মেয়ে ওয়াহিদাকে বাঁচাতে এলে বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখকেও (৭০) কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। এরপর আঘাতে অচেতন হয়ে পড়লে তাদের মৃত ভেবে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ভোরে স্থানীয়রা টের পেয়ে তাদের উদ্ধার করেন। তাৎক্ষণিকভাবে গুরুতর আহত ওয়াহিদা খানমকে রংপুরের ডক্টরস হাসপাতালে আইসিইউতে নেয়া হয় এবং তার বাবাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে, অবস্থা গুরুতর আশঙ্কাজনক হওয়ায় বৃহস্পতিবার (৩রা সেপ্টেম্বর) এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে ঢাকায় নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স অ্যান্ড হসপিটালের অধ্যাপক ডা. জাহিদুর রহমানের নেতৃত্বে ইউএনও ওয়াহিদার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। অধ্যাপক ডা. জাহিদুর রহমান বলেন, যখন প্রথম তাকে নিয়ে আসা হয় তখন ব্যান্ডেজ করা ছিল, অস্ত্রোপচার কক্ষে নেওয়ার পর দেখা যায় মাথায় মোট নয়টা আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। একটা খুব বড়, যার ভেতর দিয়ে হাড় ভেঙে ভেতরে ঢুকে গিয়েছিল। বাকি আটটা ইনজুরি ছিল। তার ভেতরে ছিল মাথার দুই পাশে তিনটা করে ছয়টি, মুখের ওপরে একটি, নাকের ওপরে একটি এবং চোখের নিচে একটি। ভেতরে ঢুকে যাওয়া হাড় বের করা হয়েছে, রক্তরক্ষণ বন্ধ করা হয়েছে। অন্য আঘাতগুলোও সব রিপেয়ার করা হয়েছে। আমার আশাবাদী। তবে এটা হেড ইনজুরি, ব্রেইনের ভেতরে রক্তক্ষরণের ব্যাপার। তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে যাবেন কিনা এখনই আমরা বলতে পারছি না ,অন্তত ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ রাখার পর এ সম্পর্কে বলা সম্ভব।

এই নৃশংস ঘটনায় অজ্ঞাতনামা দুইজনকে আসামি করে বোনকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ এনে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট থানায় মামলা করেছেন ওয়াহিদা খানমের ভাই শেখ ফরিদ। ওয়াহিদা খানম ২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর কর্মস্থলে যোগ দেয়ার পর থেকেই মাদক, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, অবৈধ বালু উত্তোলন, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিংএর বিরুদ্ধে কাজ করে সর্বমহলে প্রশংসিত হন । প্রসঙ্গত ওয়াহিদা খানম এর আগে পীরগঞ্জের পূর্বতন ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং তিনি পীরগঞ্জের বর্তমান ইউএনও মেজবাউল হোসেনের সহধর্মিনী।

বিজ্ঞাপন

***পীরগঞ্জ টোয়েন্টিফোরে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।***

Content Protection by DMCA.com