রংপুরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা

রংপুরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা নিহত ১২

রংপুরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই নারীসহ ১২ জন নিহত হয়েছেন; আহত হন অর্ধশতাধিক।  বুধবার সকালে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কে ইকরচালি বাজারের অদূরে ১৩ মাইল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে ২১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনকবলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে ৯ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এরা হলেন- সায়মন পরিবহনের চালকের সহকারী আকুল মিয়া (২৬), তৃপ্তি পরিবহনের সহকারী চন্দন রায় (২৫), নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের পাশারীপাড়া গ্রামের মৃত ইউনুস আলীর ছেলে কৃষি শ্রমিক মোহাম্মদ আলী কালা মিয়া (৪৫), সাবেদ আলীর ছেলে কৃষি শ্রমিক আব্দুল মতিন (৪০), কৃষি শ্রমিক বাবু মিয়া (২৭), লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার মধ্যগুড্ডিমারী গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক একাব্বর আলী (৬৫), নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার লিটন মিয়া (২২), ডোমারের মিজানুর রহমান (৪০) এবং তারাগঞ্জ উপজেলার ইকরচারী ফারুকীয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক জিন্নাত রেহেনা (৩৫)।

2446-02

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সায়মুন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ওই এলাকায় পৌঁছালে সামনের ডানদিকের চাকা পাংচার হয়। এ সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলায় বিপরীত দিক থেকে আসা দিনাজপুর থেকে রংপুরগামী তৃপ্তি পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।

আরো পড়ুন পীরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত

খবর পেয়ে রংপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া বাস দু’টি উদ্ধারের পর আহতদের রংপুর মেডিকেলসহ বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করান।

2446-03

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক আ স ম বরকতুল্লাহ বলেন, হাসপাতালে ৫৪ জনকে আনা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন জন মারা গেছেন। বাকি ৫১ জনের মধ্যে ২১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদেরকে নিওরো সার্জারি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

2446-04

রংপুরের জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার বলেন, লাশ বাড়িতে নেওয়ার জন্য তাদের প্রত্যেক পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫ হাজার টাকা, তারাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪ হাজার করে টাকা, আহতদের প্রত্যেককে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২ হাজার এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১ হাজার করে টাকা করে দেওয়া হয়েছে।
রংপুরের পুলিশ সুপার আব্দুর রাজ্জাক জানান, ১১ জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্যজনের স্বজন না আসায় তাদের মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার পরপরই পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি গোলাম মোস্তফা ফারুক, জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার, পুলিশ সুপার আব্দুর রাজ্জাক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

তারাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল্লাহ হেল বাকি বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

***পীরগঞ্জ টোয়েন্টিফোরে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।***

***পীরগঞ্জ টোয়েন্টিফোরে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।***

Content Protection by DMCA.com

আপনার জন্য আরো কিছু খবর...