নায়করাজ রাজ্জাক আর নেই

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাক আর নেই । চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিটে এ অভিনেতা রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

বেসরকারি হাসপাতালটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “হৃদরোগ ছাড়াও তিনি ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, উচ্চ রক্তচাপ ও উচ্চমাত্রার ডায়াবেটিসে দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন।”

রাজ্জাক ও তার স্ত্রী লক্ষ্মীর (খায়রুন নেসা) তিন ছেলে বাপ্পারাজ, বাপ্পি ও সম্রাট এবং দুই মেয়ে শম্পা ও ময়না। তার ছেলেরাও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ছেলে সম্রাট হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, “আমার বাবার জন্য আপনারা দোয়া করুন। তার মাগফেরাত কামনা করুন। আপনাদের এবং দেশবাসীর কাছে এখন সেটাই চাওয়া।”

বড় ছেলে বাপ্পারাজ গুলশানে তাদের বাসায় সংবাদ সম্মেলনে জানান, সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে তার বাবার মরদেহ। বেলা আড়াইটায় গুলশানের আজাদ মসজিদে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে হবে দাফন।

তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ায় দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নায়করাজ রাজ্জাকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আলাদা বিবৃতিতে তারা মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনাও জানান।

আরও পড়তে পারেন: টানা ভারি বর্ষণে পীরগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, জনজীবনে চরম দুর্ভোগ

রাজ্জাকের জন্ম ১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি অবিভক্ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায়। শৈশবেই তিনি বাবা-মাকে হারান। টালিগঞ্জের খানপুর হাইস্কুলে পড়ার সময় নাটকে অভিনয় করেন রাজ্জাক। কলেজে পড়ার সময় তিনি ‘রতন লাল বাঙালি’ নামে একটি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন।

অভিনেতা হওয়ার মানসে ১৯৬১ সালে কলকাতা থেকে মুম্বাই পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি; সেখানে সফল না হয়ে ফিরেছিলেন টালিগঞ্জে। কলকাতায়ও পরিস্থিতি অনুকূলে না হওয়ায় ১৯৬৪ সালে ঢাকায় চলে আসেন রাজ্জাক। টিকে থাকতে এই সময় বেশ সংগ্রাম করতে হয়েছিল তাকে।

১৯৬৬ সালে ‘বেহুলা’ চলচ্চিত্রে নায়ক হিসেবে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ঢাকাই ছবিতে দর্শকনন্দিত হন কিংবদন্তি এ অভিনেতা।

নায়করাজ রাজ্জাক প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন ‘কি যে করি’ ছবিতে অভিনয় করে। পাঁচবার তিনি জাতীয় সম্মাননা পান। ২০১৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে তিনি আজীবন সম্মাননা অর্জন করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) পুরস্কার পেয়েছেন অসংখ্যবার।

বর্তমান সময়ে চলচ্চিত্রে খুব কমই অভিনয় করছেন নায়করাজ রাজ্জাক । শুধু নায়ক হিসেবেই নয়, পরিচালক হিসেবেও বেশ সফল। ‘আয়না কাহিনী’ ছবিটি নির্মাণ করেন রাজ্জাক। নায়ক হিসেবে নায়করাজ প্রথম অভিনয় করেন জহির রায়হান পরিচালিত ‘বেহুলা’ ছবিতে। এতে তাঁর বিপরীতে ছিলেন সুচন্দা। বাংলা চলচ্চিত্র পত্রিকা চিত্রালীর সম্পাদক আহমদ জামান চৌধুরী তাকে নায়করাজ উপাধি দিয়েছিলেন। এরপর থেকে তাকে নায়করাজ রাজ্জাক বলেই সবাই অভিহিত করেন।

‘অবুঝ মন’, ‘আলোর মিছিল’ ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘রংবাজ’, ‘বাবা কেন চাকর’, ‘নীল আকাশের নিচে’, ‘জীবন থেকে নেওয়া’ ‘পিচঢালা পথ’, ‘অশিক্ষিত’, ‘বড় ভালো লোক ছিল’সহ অসংখ্য ছবিতে অভিনয় করা রাজ্জাক সর্বশেষ অভিনয় করেছেন ছেলে বাপ্পারাজ পরিচালিত ‘কার্তুজ’ ছবিতে।

—বাংলাদেশ সময়: রাত ০১:৩৫, ২২ আগস্ট, ২০১৭

***পীরগঞ্জ টোয়েন্টিফোরে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।***