উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় রাত পার ঘর পোড়া মানুষের

নিজ বসত ভিটার দিকে অপলক দৃষ্টিতে উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় তাকিয়ে আছেন দুলালি রায়। দুদিন আগেই যে ঘরে ছেঁড়া কাথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে স্বপ্নাতুর চোখে ঘুমুতে যেতেন আজ সেটা ধ্বংসস্তূপ। দুলালি রায়ের মতো এমন করুন চাহনি কৌশিল্য রায়, কুলীন রায়, দীনেশের চোখে। তারা সবাই রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার হরকালি ঠাকুরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

গত শুক্রবার ফেসবুক স্ট্যাটাসে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগ তুলে হরকলি ঠাকুরপাড়া গ্রামে হিন্দু সম্প্রদয়ের বাসিন্দাদের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। এতে বেশ কয়েকটি বসতঘর পুড়ে যায়।

“কোনটে কে বা কি লিখিল, হামরা তো কিছুই কবার পারি না”। এমন কথায় বিলাপ করছিলেন এই নারী। সুধীন রায়ের ঘর পুড়েছে ছয়টি। আসবাবপত্র, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, খাদ্যদ্রব্য সবকিছুই ভস্মীভূত হয়েছে এই হতভাগ্য মানুষটির।  এছাড়া দুটি ঘর পুড়েছে অমূন্য রায়ের।

ঘর পোড়া এই মানুষগুলোর চোখে এখনো উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার ছাপ। ভীত সন্ত্রস্ত অনেকে গতকাল রাত কাটিয়েছেন পাশের গ্রামে। যারাও বা ছিলেন ভয়ে দু’চোখের পাতা এক করতে পারেন নি। সকাল ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেল গ্রামজুড়ে।

ভয়ের চেয়ে উৎকণ্ঠা বেশিই মনে হল। কিভাবে আবার ঘর তুলবেন, কিভাবে সংসার চালাবেন কিছুই  বুঝতে পারছিলেন না। এমন অভিব্যাক্তি বিধান রায়, দীনেশের।

সকাল পর্যন্ত গ্রামে পুলিশ পাহারা ছিলো। এদিকে আজ সকালে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামটি পরিদর্শন করেছেন  ইউএনও জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ঘর নির্মাণে সহায়তা করা হবে।

কোতোয়ালি ও গঙ্গাচড়া উপজেলার থানায় পুলিশ বাদী হয়ে দু’টি মামলা দায়ের করেছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় ৫৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

—বাংলাদেশ সময়: রাত ০১:১৩, ১২ নভেম্বর, ২০১৭

***পীরগঞ্জ টোয়েন্টিফোরে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।***

আরও পড়ুন...