পীরগঞ্জের ওসি সরেস চন্দ্র, একজন সফল পুলিশ কর্মকর্তার প্রতিচ্ছবি – বেলায়েত হোসেন

বিজ্ঞাপন

পরিবর্তনের জন্য যুগ যুগ ধরে সমাজ রাষ্ট্রে কিছু সংস্কারকের জন্ম হয় সমাজ এমনকি রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য। তারা কোনো কিছুর বাধা না মেনেই নিজের নিয়মে, নিজের গতিতে পরিবর্তনে বিশ্বাস করেন। পীরগঞ্জ থানার (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) ওসি সরেস চন্দ্র সেরকমই একজন সংস্কারকের নাম। অন্ধকারালয় থেকে একটি পুলিশ স্টেশনকে, একটি থানাকে কিভাবে আলোয় নিয়ে আসতে হয় তা দেখিয়েছেন।

থানা যে কোন ভয়ংকর স্থান নয়, পুলিশ কোন আতঙ্ক নয় তা সরেস চন্দ্র জনগণের কাছে উপস্থান করতে সক্ষম হয়েছেন। বরং থানা শুদ্ধতার স্থান, পুলিশ জনগণের বন্ধু, সংস্কারক এটাই প্রমাণিত হয়েছে ওসি সরেস চন্দ্রের কর্মদক্ষতা, আন্তরিকতা, ভালোবাসা, সুমিষ্ট ব্যবহারে ও আতিথেয়তায়।

বিজ্ঞাপন

পীরগঞ্জ থানাকে এর আগেও উপজেলাবাসী দেখেছেন। দেখেছেন থানা কত নির্দয়ের স্থান, নিষ্ঠুরতা ও পাপীষ্ঠের জঘন্যতম স্থান হতে পারে। কিন্তু ওসি সরেস চন্দ্র তার আন্তরিক সেবায় তা ভুল প্রমাণ করে আজ তার আমূল পরিবর্তন করে দিয়েছেন।

কর্মস্থলে যোগদান করেই পীরগঞ্জ উপজেলা মানুষের নিকট একজন মানবতাবাদী পুলিশ অফিসার হিসাবে সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছেন। পীরগঞ্জ থানায় যোগদানের পর থেকে থানা এলাকার ছিচকে চোর, মাদক ব্যবসায়ী, টাউট-বাটপার ও দালালদের দৌরত্ম্য অনেকটা বন্ধ হয়েছে গেছে। পীরগঞ্জবাসীকে এখন পুলিশী সেবা পেতে দূর্ভোগ পোহাতে হয় না। ধনী-গরীব সবার জন্য ওসির দরজা সব সময় উন্মোক্ত করেছেন তিনি।

পীরগঞ্জ থানার (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা সরেস চন্দ্র দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে ঘুষ, দূর্নীতিমুক্ত, দালালদের উৎপাত বন্ধ, মাদক উদ্ধার, মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দক্ষতা কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা, আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখকে নজরদারী বৃদ্ধি, প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে দক্ষ অফিসার নিয়োগ, বিশ্বরোড ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টহলবৃদ্ধি, বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস বিষয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি ও অভাবী মানুষকে সহায়তা প্রদান, ছোট-খাট অভিযোগ সমূহ শালিসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি, দীর্ঘদিনের কলহের মামলার রহস্য উদঘাটন, রাস্তায় ছিনতাই বন্ধে কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার, শতভাগ জুয়া মুক্ত উপজেলা এবং সরকার বিরোধী কর্মকান্ড শক্ত হাতে প্রতিরোধ করে নন-স্টপ (বিরামহীন) সেবা দিয়ে আসছেন। পীরগঞ্জের একজন দক্ষ মানবতাবাধী পুলিশ অফিসার হিসাবে সাধারন মানুষের মনের মধ্যে স্থান করে নিয়েছেন পীরগঞ্জ উপজেলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরেস চন্দ্র। এই কাজ সমূহ করার উৎসাহ যুগিয়েছেন রংপুরের সুযোগ্য পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার।

পীরগঞ্জ থানার গত ৩০ দিনে গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হল, সরকার বিরোধী আন্দোলনের কৌশল অন্তঘাত মূলক সমাবেশ হওয়ার অপরাধে ৩ জনকে গ্রেফতার ও তাদের স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দিতে ১৫/১৬ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের, ৭টি মাদক মামলায় ৯ জন ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার সহ ৪৫০ পিচ প্যাথডিন ইনজেকশন উদ্ধার, ২১২ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট ১৩ বোতল ফেন্সিন্ডিল ৩৬৫ গ্রাম শুকনা গাজাসহ অর্ধশত লিটার দেশি চোয়ানী মদ উদ্ধার। ৮ এপ্রিল পীরগঞ্জ বাস স্ট্যান্ডে দিন-দুপুরে ছুরিকাঘাত করে হত্যা মামলার আসামী গ্রেফতার ও তার স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি অনুযায়ী হত্যা কাজে ব্যবহৃত ছুরি রক্তমাখা জামা উদ্ধার। পৌরসভার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ডাকাতি মামলার ৫ জন ডাকাত গ্রেফতার, ১ নং ওয়ার্ডের তুলারাম মজিদপুর গ্রামে দস্যুতা মামলার ২জন আসামী গ্রেফতার, জেসমিন আক্তার নামে এক কিশোরীকে অপহরণ ও তাকে উদ্ধার করে আসামীকে গ্রেফতার, ৩টি ধর্ষণ মামলার এজাহার নামীয় ৫জন আসামীকে গ্রেফতার, বিভিন্ন চুরি মামলার ১৬ জন চোর ও চুরি হয়ে যাওয়া মোটর সাইকেল অন্য উপজেলা থেকে উদ্ধার এবং অপরাধ সংগঠনের দায়ে একটি কার্ভাট ভ্যান আটক। জিআর সাজাপ্রাপ্ত ১জন আসামীকে গ্রেফতার, সিআর ও জিআর মামলা মূলে ৩৫ জন আসামীকে গ্রেফতার এবং ঢাকা সাভার থেকে অটো ভ্যান চুরি করে পীরগঞ্জে আনার দায়ে চুরি যাওয়া অটো উদ্ধার ও ২ জন চোরকে গ্রেফতার। জিডি মূলে দেড় বছর পূর্বে হারিয়ে যাওয়া এন্ড্রয়েড ফোন উদ্ধার ছাড়াও ছোট ছোট অভিযোগ সমূহ মামলা না করে সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করে প্রশংশিত হয়েছেন উপজেলা সর্বমহলে।

পীরগঞ্জ থানা এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলাপকালে ওসি সরেস চন্দ্র বলেন, মানুষের সেবা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা আমার দায়িত্ব। ওসি হিসেবে যতদিন কর্মরত আছি, ততদিন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে নিরলসভাবে আমার দায়িত্ব পালন করবো। যেন মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে ও সস্তিতে থাকতে পারে।

তিনি বলেন, আমি মানবতা ও মানবিক দৃষ্টিকোণ দিয়ে সকল সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই। কেউ যদি কোথাও সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসা, চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই করে আর সে ঘটনা যদি পুলিশকে জানানো হয় তাহলে তথ্য দাতার পরিচয় গোপন রেখে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরাধ দমনের পাশাপাশি উপজেলাকে মাদক মুক্ত করার প্রত্যয়ে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। মাদকের সাথে জড়িতদের সমাজ থেকে নির্মুল করা হবে।

মাদকের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স দেখানো হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদকের সাথে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ছাড় পাবে না নাশকতাকারীরাও। জঙ্গী, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান অব্যহত থাকবে। তিনি অপরাধ দমনে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের পোশাক পরিহিত কারো সাথে কেউ যদি ব্যবহার খারাপ করে সে যত বড় হউক না কেন উচিৎ জবাব দেওয়া হবে। আমার অধিনস্থ কোন অফিসার বা সদস্য কোন অপকর্ম করছে বলে প্রমানিত হলে আমাকে জানালে উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, আমি ৯ অক্টোবর/২০১৮খ্রি. তারিখে পীরগঞ্জ থানায় যোগদান করেছি, ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী মাদক ব্যবসা ছেড়ে অন্য পেশা বেছে নিয়েছে, পূর্বের যে কোন সময়য়ের চেয়ে পীরগঞ্জে অপরাধ প্রবণতা কমে গেছে, এটা আমাদের বিরাট সাফল্য।

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। পীরগঞ্জ টোয়েন্টিফোর-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য পীরগঞ্জ টোয়েন্টিফোর কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না। ***

বিজ্ঞাপন

***পীরগঞ্জ টোয়েন্টিফোরে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।***

Content Protection by DMCA.com