পীরগঞ্জে ধান কেনা-বেচা নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, থানায় মামলা

পীরগঞ্জে ধান বিক্রি করে অগ্রীম টাকা নেওয়ার পরেও ধান না দেওয়ায় কথা কাটা কাটির জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই বিষয়টি মীমাংসা করতে গিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সেলিম মিয়া সহ বেশ কয়েকজন গুরতর আহত হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে পীরগঞ্জ থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আসামীগণ হল মদনখালি ইউনিয়নের ঠাকুরদাস লক্ষীপুর গ্রামের শাহাজান আলীর পুত্র শাহীন মিয়া, শফিকুল ইসলাম সফি, আবু রায়হান, জহুরুল ইসলাম সকলের পিতা- আব্দুল রাজ্জাক, আরিফুল ইসলাম ও তারিকুল ইসলাম পিতা- মৃত আনিসার রহমান, আমিনুল ইসলাম ও মানিক মিয়া, পিতা- মৃত তোফাজ্জল হোসেন, শরিফুল ইসলাম বিপ্লব পিতা- আব্দুর রহিম, খুশি মিয়া পিতা- বাদশা মিয়া, ওহাব মিয়া পিতা- আয়ুব আলী, সাইফুল ইসলাম পিতা- আব্দুল কাদের সহ অজ্ঞাত নামা আরো ১০-১২ জন।

মামলা নম্বর- ২৩৫৮ (৩) ১। ধারা- ১৪৩/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৫০৬/১১৪/৩৪। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায় উপজেলার ৭ই জুন মদনখালি ইউনিয়নের কাফ্রিখাল গ্রামের বুদা মিয়ার পুত্র লিটন মিয়া (৩০) নিকট থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে পরবর্তীতে ধান বিক্রি না করার ইচ্ছা প্রকাশ করলে খালাশপীর বন্দরে আমজাদিয়া হোটেলের সামনে রাস্তার মোড়ে লিটনের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে লিটন ও তার লোকজনকে আসামীগণ মারপিট করতে থাকে।

মামলার বাদী ওই ইউনিয়নের নির্বাচিত আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সেলিম মিয়া বিষয়টি মীমাংসার জন্য আসামীগণকে ডাকলে ০১ নম্বর আসামীর নেতৃত্বে ও হুকুমে সকল আসামীগণ দেশীয় অস্ত্র, লাঠি-সোটা, ধারালো ছোরা, হাসুয়া, লোহার রড, দা ইত্যাদি অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সেলিমকে এলোপাথাড়িভাবে মারপিট করতে থাকে। মারার এক পর্যায়ে মোছাদ্দেক হোসেন, লিটন মিয়া, রবিউল ইসলাম, রাশেদুল ইসলাম, মারুফ সরকার, সামিম মিয়া, আসামীদেরকে মারপিটে বাধা প্রদান করলে এজাহারে উল্লেখিত ৪ নম্বর আসামী তার হাতে থাকা হাসুয়া দ্বারা মোসাদ্দেক হোসেনকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা বরাবর কোপাতে থাকে। একপর্যায়ে রক্তাক্ত জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

১ নম্বর আসামী তার হাতে থাকা ধারালো ছোরা দ্বারা হত্যার উদ্দেশ্যে বাদীকে আঘাত করলে ডান হাতের কনুই এর উপরে লাগলে রক্তাক্ত জখম প্রাপ্ত হন এবং ২ নম্বর আসামী তার হাতে থাকা ধারালো ছোরা দ্বারা হত্যার উদ্দেশে মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে বাম পাশে লেগে গুরুতর জখম প্রাপ্ত হন।

সেলিমকে মারতে দেখে ছোট ভাই এগিয়ে আসলে তাকেও বেধড়ক পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। একইভাবে যে লোকই মারতে নিষেধ করে তাদেরকেই এলোপাতাড়ি ভাবে মারডাং করে। এ সময় মরিনুল ইসলাম, সাদ্দাম হোসেন, রাজু মিয়া, মাহফুজার রহমান, উজ্জম মিয়া, আশিকুর রহমান সহ অনেকেই এগিয়ে আসলে আসামীগণ পিছু হটে যেতে বাধ্য হয় এবং যাওয়ার সময় বিষয়টি নিয়ে থানায় মামলা করলে জীবননাশের হুমকী দিয়ে চলে যায়।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে পীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনলে মোছাদ্দেক হোসেন ও মিলটন মিয়ার অবস্থার অবনতির আশঙ্কায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এ বিষয়ে পীরগঞ্জ থানার কর্মরত উপ-পুলিশ পরিদর্শক মো. জামিউল ইসলাম এর সঙ্গে মুঠোফোনে মামলার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন এজাহারে উল্লেখিত ২ নম্বর আসামী সফিকুল ইসলাম সফিকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যহত রয়েছে।

***পীরগঞ্জ টোয়েন্টিফোরে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।***

Content Protection by DMCA.com