কাল্পনিক এজাহার সাজিয়ে থানায় মামলা, এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি

বিজ্ঞাপন

ভেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে পানবাড়ি গ্রামের মানুষ। ওই ইউপি সদস্য তার নিজ ওয়ার্ডের ভ্যানচালক সহ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলের বিরুদ্ধে ইট বালু সিমেন্ট চুরির কাল্পনিক এজাহার সাজিয়ে মামলা করেন। এরপর থেকেই এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ওই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম লেবুর বাড়ি থেকে পাতুল্যকুড়া পর্যন্ত রাস্তাটি গত বর্ষাকালে বেহাল অবস্থায় থাকায় কৃষি পণ্য সরবরাহ, রোগী পরিবহণ, পথচারী এবং স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের চলাফেরা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়ে। ফলে স্হানীয়রা বিষয়টি বর্তমান চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম রবিকে অবহিত করেন।

বিজ্ঞাপন

চেয়ারম্যান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সেখানে একটি ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা করেন। কিন্তু স্হানীয়রা জানায় সেখানে ড্রেন নির্মাণ করলে সুফল পাওয়া যাবে না। সেকারণে লোকজনের চলাফেরা করার স্বার্থে অস্থায়ীভাবে কিছু ইট এবং সুড়কি দিয়ে রাস্তা মেরামত করার পরিকল্পনার করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মান্নাফ মিয়ার মাধ্যমে ১৫০০ শত ইট, এক গাড়ি বালু, পাঁচটি সিমেন্টের ব্যাগ বর্ণিত স্হানে ড্রেন নির্মাণের জন্য নিয়ে আসা হয়।

ইট সিমেন্ট বালু আনার পরেও কাজ শুরু করতে দেরি করায় জন দুর্ভোগ যখন চরমে তখন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম লেবুর পুত্র মাজহারুল ইসলাম কয়েক ট্রলি ইটের আদলা এনে রাস্তায় বিছিয়ে পথচারীদের দুর্ভোগ কিছুটা কমিয়ে আনেন। আর এতে নাকি বর্তমান ইউপি সদস্য মান্নাফ মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে মাজহারুল ইসলামকে এক নম্বর আসামি করে আরো পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করে পীরগঞ্জ থানায় চার হাজার ইট, দশ ব্যাগ সিমেন্ট এক গাড়ি বালু চুরির মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ মামলা গ্রহণের পর ওই দিনেই দুইজনকে গ্রেফতার করে কোর্টে প্রেরণ করেন। মামলার স্বাক্ষী আবুল কাশেম আলী, আলামিনের স্ত্রী মার্জিয়া বেগম, ফজল উদ্দিন সরকারের স্ত্রী শোভা বেগম, মৃত মোজাম্মেল হকের পুত্র সরোয়ার জাহান, মৃত ইউনুস আলীর পুত্র আবুল কাশেম আলী সহ শতাধিক পুরুষ মহিলা পীরগঞ্জ টোয়েন্টিফোরকে জানায়, ড্রেন নির্মাণের জন্য ইউপি সদস্য মান্নাফের আনা ইট, পাঁচ ব্যাগ সিমেন্ট এখনো যথাস্থানে আছে।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মান্নাফ মিয়ার সাথে কথা বললে তিনি জানান, “ভাই আপনেরা যা দেকেছেন একটি ইট বা বালু খোয়া বা চুরি হয়নি। ইউনিয়ন পরিষদে সবার সাথে কথা বলে যে মামলা করা হয়েছে তা মুই জান না। পারলে চেয়ারম্যান সাহেবের সাথে যোগাযোগ করেন।”

কে কে এই কাল্পনিক এজাহার সাজিয়ে মামলা করার পরামর্শ দিল সেই প্রশ্নের জবাবে মেম্বার বলেন, “ভাইজান একন কি করা নাগবে?” মুঠাফোনে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম রবির কাছে মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ভাই এগুলো লেখালেখি না করলে কি সমস্যা। আমার ইউনিয়নের বিষয় আমাকে বুঝতে দেন।”

মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস আই সত্যেন্দ্রনাথ রায় বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এলাকাবাসীর কথা শুনে মামলা তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

বিজ্ঞাপন

***পীরগঞ্জ টোয়েন্টিফোরে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।***

Content Protection by DMCA.com