মৃত্যুর ৮ বছর পরেও বয়ষ্ক ভাতার টাকা উত্তোলন অব্যাহত

রংপুরের পীরগঞ্জে মৃত্যুর ৮ বছর পরেও একাধিক ব্যক্তির নামে বিধবা বয়স্ক ভাতার টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার টুকুরিয়া ইউনিয়নে ১টি ওয়ার্ডে এ রকম ৬ জনের নামে পৃথক ভাতা উত্তোলন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর আওতায় ওই সব ভাতাভোগীদেরকে অনলাইনে তথ্য অন্তর্ভূক্ত করতে গিয়ে বিষয়টি সমাজসেবা বিভাগের নজরে পড়ে।

পীরগঞ্জের ১৫টি ইউনিয়নের দরিদ্রদের মাঝে সমাজসেবা বিভাগের অধীনে সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর আওতায় বয়স্ক, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ও প্রতিবন্ধীসহ বিভিন্ন ধরনের ভাতা প্রদান করছে। ওই কর্মসূচীর কোন সুবিধাভোগী মারা গেলে তার (মনোনীত ব্যক্তি) ৩ মাসের ভাতা পাবেন। অপরদিকে মৃত ভাতাভোগীর স্থলে নতুন নামে অন্তর্ভূক্ত করতে হলে বিধান অনুযায়ী পুরাতন বই সমাজসেবা অফিসে জমা দিতে হয়। এরপর চেয়ারম্যানের দেয়া ভাতাভোগীর মৃত্যু সনদ ও প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রসহ নতুন ভাতাভোগী হিসেবে আবেদন করতে হয়।

কিন্তু উপজেলার টুকুরিয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডে ওই কর্মসূচীর আওতাভুক্ত ৬জন সুবিধাভোগীর মৃত্যুর ৮ বছর পরেও ভাতাভোগীদের বইয়ে অন্যের ছবি লাগিয়ে ভাতার টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইউনিয়নটি ৫নং ওয়ার্ডের হরিনা গ্রামের বয়স্ক ভাতাভোগী মজিবর রহমান (কার্ড নং- ৭১২৯/৬, ১বছর আগে মৃত), হরিনার বিধাবা ভাতাভোগী খরকী মাই (কার্ড নং- ৩৪৪০/৬, ৮ বছর আগে মৃত) ও রহিমা বেগম (কার্ড নং- ৪২৫৫/৬, ৯ বছর আগে মৃত), মাধবপুরের বয়স্ক ভাতাভোগী জায়দা বেগম (কার্ড নং- ৩৪৩৯/৬, ২ বছর আগে মৃত) এবং হামিদা বেগম (কার্ড নং- ৫৪৫৭/৬ দেড় বছর আগে মৃত) মারা গেলেও তাদের নামে ভাতা উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টুকুরিয়া ইউপির কয়েকজন ইউপি সদস্য এই প্রতিবেদককে জানান, এ রকম আরও অনেক গ্রামের ভাতা উত্তোলন করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা জড়িত। মৃতদের নামে ভাতা উত্তোলন অবৈধ সুযোগ দিয়ে চেয়ারম্যান- মেম্বাররা আর্থিক সুবিধা নিচ্ছে বলে জানা গেছে। ইউনিয়নটির ৫নং ওয়ার্ড সদস্য রেজাউল করিম বলেন, আমার ওয়ার্ডে বয়স্ক-বিধবা ভাতা পাওয়া কয়েকজন ব্যক্তি কয়েক বছর আগে মারা গেলেও তাদের নামে ভাতা উঠছে। কিভাবে তা উঠছে, জানি না।

এব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মন্ডলকে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করলে পাওয়া যায়নি। ইউনিয়নটিতে সমাজসেবা বিভাগের সমাজকর্মীর দায়িত্বে থাকা আফরোজা বেগম বলেন, ভাতাভোগী কেউ মারা গেলে ইউপি চেয়ারম্যান তার ব্যাপারে মৃত্যুসদন প্রদান করবেন। আমরা মাঠপর্যায়ে দীর্ঘদিন ইউনিয়নটিতে কাজ করলেও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর কে কে মারা গেছেন, তা জানি না। তবে ২/৩ জনের বই আমাদের কাছে জমা আছে। সেগুলোর টাকা তুলতে পারেনি।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন জানান, আমাদের কাছে এ ধরনের তথ্য না আসায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারছি না। আগামী ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের ই-সার্ভিস সেন্টারে উল্লেখিত সুবিধাভোগীদের শতভাগ তথ্যাবলী অনলাইনে পূরণ করতেই হবে। উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের সুবিধাভোগীদের মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ ব্যক্তির তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। তাই মাঠপর্যায়ে সমাজসেবা কর্মীদের সহায়তায় এ ব্যাপারে যাচাই-বাছাই চলছে। যাচাই করতে গিয়ে অনেককেই মৃত পাচ্ছি। অনেকের নামে টাকাও উত্তোলন করা হচ্ছে। ভাতাভোগীদের মধ্যে মৃতদের টাকা ব্যাংকেই অবিতরণকৃত অবস্থায় থাকতে পারে।

আরও পড়তে পারেন: পীরগঞ্জে অসহায়-দরিদ্র মহিলাদের পাশে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি

তিনি আরও বলেন, টুকুরিয়া ইউপিতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর আওতায় মৃত্যুর ৮ বছর পরেও জনের নামে টাকা উঠছে, তা এখন আপনার কাছে জানলাম। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উল্লেখ্য, গত অর্থ বছরে পীরগঞ্জ উপজেলায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর আওতায় বয়স্ক ভাতায় ৯ হাজার ৬৪৬ জন, বিধবা ভাতায় ৪ হাজার ৪৭৫ জন এবং প্রতিবন্ধী ভাতায় ২ হাজার ১৯৩ জন মোট ১৬ হাজার ৩১৪ জন ভাতা পেয়েছেন।

***পীরগঞ্জ টোয়েন্টিফোরে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।***

আরও পড়ুন...