ইটভাটায় মানা হচ্ছে না পরিবেশবিধি, কৃষি ফসল বিপর্যয়

রংপুরের পীরগঞ্জে সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই ইটভাটা নির্মাণ চলছে। সেই সঙ্গে ইট তৈরির ক্ষেত্রে বেশিরভাগ ইটভাটায় টপ সয়েল ও জ্বালানি হিসেবে কাঠ-খড়ি পোড়ানো অব্যাহত রয়েছে। ফলে পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে শিশুদের নানা রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটছে।

২০০৮ সালে এ উপজেলায় ১৩টি ইটভাটা থাকলেও বর্তমানে এর সংখ্যা প্রায় ৪০টিরও বেশি। সেই সঙ্গে আরো নতুন ভাটা নির্মাণের কাজ অব্যাহত রয়েছে। ইটভাটাগুলিতে ইট পোড়ানোর ক্ষেত্রে সকল বিধি বিধান উপেক্ষিত হয়ে পড়েছে। ১৯৮৯ সালে ইট পোড়ানো অধ্যাদেশ অনুযায়ী ইট ভাটা লাইসেন্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফরমে সরকারি ফিস প্রদান করে জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন পেশ করতে হবে। আবেদন প্রাপ্তির পর জেলা প্রশাসক কর্তৃক মনোনীত একজন প্রতিনিধি যিনি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নিম্নে হবে না।

সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বা তৎকর্তৃক মনোনীত কোন বন কর্মকর্তা পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয় বা জেলা কার্যালয় কর্তৃক মনোনীত কর্মকর্তা, যিনি উহার সদস্য সচিব হবেন। উল্লেখিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি আবেদনের উল্লেখিত বিষয়গুলি সত্যতা সম্পর্কে সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক জেলা প্রশাসকের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করবেন। প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর জেলা প্রশাসক আবেদনকারীকে বিধিতে নির্ধারিত পদ্ধতিতে লাইসেন্স প্রদান করবেন। ইট পোড়ানোর জন্য প্রদত্ত লাইসেন্স উহা প্রদানের তারিখ হতে তিন বছরের জন্য বৈধ থাকবে।

তবে উক্ত মেয়াদের মধ্যে লাইসেন্স প্রাপ্ত ব্যক্তি যদি এই আইনের কোন বিধান বা তদন্তাধীন কোন বিধি লাইসেন্সে উল্লেখিত কোন শর্ত লঙ্ঘন করেন তা হলে জেলা প্রশাসক উক্ত লাইসেন্স প্রাপ্ত ব্যক্তিকে প্রস্তাবিত লাইসেন্স বাতিলের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর পর বাতিল করতে পারবেন। কিন্তু পীরগঞ্জে যত্র-তত্র ইটভাটা নির্মাণ ও যেভাবে ইট পোড়ানো হচ্ছে তাতে আইনের সকল বিধি উপেক্ষিত হয়ে পড়েছে।

আবাসিক এলাকা ও ফলের বাগান হতে তিন কিলোমিটার দুরত্বের মধ্যে ভাটা স্থাপন করার লাইসেন্স প্রদান করা যাবে না মর্মে বিধিতে উল্লেখ থাকলেও পীরগঞ্জে কোন ভাটার ক্ষেত্রে এ আইন প্রযোজ্য হচ্ছে না। ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত ১৯৯২ সালের প্রজ্ঞাপনে কৃষি জমিতে ইট ভাটা নির্মাণ দন্ডনীয় অপরাধ উল্লেখ থাকলেও পীরগঞ্জে কোন ইটভাটায় এই নিয়মনীতি মানা হচ্ছে না।

আরও পড়তে পারেন: পীরগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি শুরু

উল্টো কৃষি জমি নষ্ট করে যত্র-তত্র প্রতিযোগিতামূলক প্রভাবশালীরা ইটভাটা গড়ে তুলছে। এসব ইটভাটায় আবাদি জমির উপরের অংশের উর্বর মাটি (টপ সয়েল) ব্যবহারের কারণে কৃষি প্রধান এ এলাকায় জমির উৎপাদন শক্তি হারিয়ে ফেলছে। এছাড়াও ইট পোড়ানোর কাজে বন উজার করে জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করছে। প্রতিদিনই ভাটা গুলিতে হাজার হাজার টন কাঠখড়ি ব্যবহার হচ্ছে জ্বালানি হিসেবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, গবেষণা প্রতিষ্ঠান হতে এক কিলোমিটার দুরত্বের ভাটা স্থাপনের উল্লেখ থাকলেও কোন স্থানেই তা মানা হচ্ছে না।

***পীরগঞ্জ টোয়েন্টিফোরে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।***

আরও পড়ুন...