আমার আব্বা.. আমার আল্লাহ.. শ্রদ্ধা দেখিয়ে অসম্মানিত মীরাক্কেলের মীর

ফের ধর্মীয় রোষে পড়লেন মীর৷ তাও আবার পবিত্র ঈদের দিনে৷ ঈদের নমাজ পড়ে বেরোনোর পর সোমবার ফেসবুকে তাঁর পোস্ট করা একটি ছবিকে ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত৷ প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের টিপু সুলতান মসজিদ থেকে বেরিয়ে তিনি বাবাকে জড়িয়ে ধরে একটি ছবি তোলেন এ দিন৷ সেটি ফেসবুকে পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘ আমার আব্বা.. আমার আল্লাহ.. ঈদ মুবারক৷ ’ পোস্টটি অনেকে লাইক করেন প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই৷ কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে ছবিতে কমেন্টগুলো অন্যরকম আসছে থাকে৷ বাবাকে কেন আল্লাহ বলা হয়েছে , সেই প্রশ্ন তুলে মীর ও তাঁর বাবাকে অশ্রাব্য গালাগালি দেওয়া শুরু হতে থাকে ফেসবুকে৷

মীরকে যে অশ্লীল ভাষায় গোঁড়া ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের একাংশ আক্রমণ করেন, তার সমালোচনায় সোচ্চার হয়েছে বিভিন্ন মহল৷ ধর্মীয় সহনশীলতার অভাবকে কাঠগড়ায় তুলে গায়ক রূপম ইসলাম বলেন, ‘মীর সমাজের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তিত্ব৷ এবং সেটা তাঁর কাজ, তাঁর ভাবনার জন্য৷ তিনি যদি কাউকে গালি দিতেন, ভাবতাম! কিন্তু ওঁর মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে গালি দিয়েছেন কিছু অকিঞ্চিত্কর ব্যক্তি৷ এ নিয়ে আর কী বলব! তবে দেখতে হবে, মীরকে কিছু বলার কোনও ন্যূনতম যোগ্যতা আদৌ ওঁদের কারও আছে কিনা৷’

বিকেলের পর থেকে অবশ্য সেই ছবিটি আর দেখা যায়নি মীরের ফেসবুক প্রোফাইলে৷ সন্ধ্যায় তিনি মায়ের রান্না করা বিরিয়ানির প্লেট নিয়ে তোলা একটি ভিডিও -সহ ঈদের শুভেচ্ছাবার্তা পোস্ট করেন৷ এ দিনের অনভিপ্রেত ঘটনা প্রসঙ্গে মীর নিজে কোনও মন্তব্য করতে চাননি৷ তবে সন্ধ্যায় করা এক ভিডিও পোস্টে তিনি স্পষ্টই উল্লেখ করেন, ‘উইথ দিস পোস্ট, ফ্রম টুডে, আই অ্যাম রেস্ট্রিক্টিং পিপল’স অ্যাকসেস টু কমেন্টিং অন মাই ওয়াল টু জাস্ট ফ্রেন্ডস৷’ অর্থাৎ, তাঁর ফেসবুক-বন্ধুরা ছাড়া যাতে অন্য কেউ তাঁর ওয়ালে মন্তব্য করতে না -পারেন, তার ব্যবস্থা এ দিন সন্ধ্যা থেকেই পাকা করে দেন মীর৷ ঘটনা হল, এর আগেও একাধিকবার উগ্র ধর্মাবলম্বীদের রোষানলে পড়েছেন মুক্তমনা মীর৷

আরও পড়তে পারেন: ঈদে সহায়তা পেল পীরগঞ্জে দুর্ঘটনায় নিহত লালমনিরহাটের ১২ পরিবার

ভারতীয় লেখক আবুল বাশার জানান, ইসলাম শাস্ত্রেই বলা আছে, বাপ -মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেস্ত৷ তা হলে ফেসবুকে মীরের অভিব্যক্তি প্রকাশে সমস্যা কোথায়? বাশার সাহেবের কথায়, ‘যাঁরা গোঁড়ামির কারণে গালাগালি করছেন, তাঁরা আংশিক জেনে মৌলবাদ ছড়াচ্ছেন৷ তাঁরা ধর্মটাই ভালো করে জানেন না৷ ইসলামের যে চারটি চিন্তাধারা (হানাফি, শাফি, হাম্বেলি ও মালিকি ) রয়েছে, তার মধ্যে হাম্বেলি ভাবধারাটি নরে ঈশ্বরত্ব ও ঈশ্বরে নরত্ব আরোপে বিশ্বাসী৷ যে কোনও একটি ভাবধারা অনুসরণ করলেই যেহেতু চলে, তাই বাবাকে আল্লাহ বলে, শাস্ত্রীয় মতেও মুসলমান হিসেবে মীর কোনও কিছুকেই অশুদ্ধ করেননি৷’

—বাংলাদেশ সময়: রাত ০১:৪৯, ২৯ জুন, ২০১৭

***পীরগঞ্জ টোয়েন্টিফোরে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।***